
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে সরব হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকানসহ সর্বত্র একই আলোচনায় এসেছে—কোন নেতা বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।
ইতিমধ্যেই জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামী দল ৬টি আসনে নিজেদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং মাঠে প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন।
এর বিপরীতে বিএনপি এখনও কোনো আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। প্রতিটি আসনে ৬ থেকে ৭ জন করে প্রার্থীপ্রত্যাশী প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। অনেকেই গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক মাঠে সরব ছিলেন না, তবে বর্তমানে সপ্তাহের শুক্র-শনিবার দুই দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মিসভা, আলোচনা সভা ও সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি চালাচ্ছেন।
জেলার প্রতিটি উপজেলা বিএনপিতে দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কারণে বিভাজন দেখা দিয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলাতে ২–৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রয়েছে বিএনপি। দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এই বিভাজন দূর করার প্রয়োজন রয়েছে, নাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানিয়েছেন, প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন এবং চলতি মাসের মধ্য বা শেষ দিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রতিটি আসনে সবুজ সংকেত দেবেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াত আগেভাগে একক প্রার্থী ঘোষণা করলেও এটি বিএনপির ভোটে প্রভাব ফেলবে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর)
এই আসন মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তাই বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দল হিন্দু ভোটারদের প্রতি নজর দিচ্ছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রার্থীরা হলেন: অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, এমএ হান্নান, মো. শফিকুল ইসলাম, কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, ড. শামসুল হক কিবরিয়া, আলী আযম চৌধুরী ও এমএ মোনায়েম। জামায়াত থেকে প্রার্থী অধ্যাপক একেএম আমিনুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)
বিএনপি প্রার্থী সম্ভাব্যরা গণসংযোগ চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা হলেন: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, এসএন তরুণ দে, শেখ মোহাম্মদ শামীম, অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, আহসান উদ্দিন খান শিপন, আবু আসিফ আহমেদ, শাহজাহান সিরাজ ও ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব। জামায়াত থেকে প্রার্থী মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, এনসিপি থেকে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে নেছার আহমেদ নাছেরী এবং খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মাইনুল ইসলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (জেলা সদর-বিজয়নগর)
পাঁচবার এমপি ছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল মনোনয়নপ্রত্যাশী। জামায়াত থেকে প্রার্থী মো. জোনায়েদ হাসান, এনসিপি থেকে মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মুহসিনুল হাসান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া)
বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীরা হলেন: মুশফিকুর রহমান, প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, নাছির উদ্দীন হাজারী, মুসলেম উদ্দিন, কবির আহাম্মেদ ভূঁইয়া, নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ। জামায়াত থেকে প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মুফতি জসিম উদ্দিন, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা জয়নাল আবেদীন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)
বিএনপি প্রার্থীরা হলেন: কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, মো. সায়েদুল হক সাঈদ, তকদীর হোসেন মো. জসিম, সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কেএম মামুন অর রশিদ, রাজীব আহসান চৌধুরী পাপু, আব্দুল্লাহ আল বাকি। জামায়াত থেকে প্রার্থী আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আবদুল কাইয়ূম ফারুকী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)
সাবেক এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এমএ খালেক প্রধান মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যান্য প্রার্থী: অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। জামায়াত থেকে প্রার্থী সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিবুল হুদা, গণসংহতি আন্দোলন থেকে জুনায়েদ সাকি, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আবদুল মজিদ। গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীজনিত কারণে বিএনপি হয়তো এই আসনে ছাড় দিতে পারে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।