সন্তান মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এই অমূল্য দান লাভের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব। সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে—নবজাতককে ঘিরে আনন্দের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সন্তানের জন্য কল্যাণ ও বরকতের দোয়া করা উচিত।

হজরত ইবরাহিম (আ.) সন্তান লাভের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি সন্তান, নিজের পিতা-মাতা এবং মুমিনদের জন্য দোয়া করেছিলেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর সেই দোয়া তুলে ধরা হয়েছে।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ ۝ رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ ۝ رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি ওয়াহাবা লি আলাল কিবারি ইসমাঈলা ওয়া ইসহাক। ইন্না রাব্বি লাসামিউদ দুআ। রাব্বিজআলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিন জুররিয়্যাতি, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ। রাব্বানাগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়া লিলমুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।

অর্থ: ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বৃদ্ধ বয়সে আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয়ই আমার রব দোয়া শ্রবণকারী। হে আমার রব! আমাকে ও আমার বংশধরদের সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার দোয়া কবুল করুন। হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদের ক্ষমা করুন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত ৩৯-৪১)

এই আয়াতগুলো থেকে সন্তান লাভের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, সন্তানের কল্যাণ কামনা এবং নিজের পিতা-মাতা ও মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব জানা যায়। হজরত ইবরাহিম (আ.) সন্তান লাভের আনন্দে শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি; বরং সন্তান ও পরিবারের পাশাপাশি সমগ্র মুমিনদের জন্যও দোয়া করেছেন।

নবজাতকের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করার বিষয়টিও ইসলামী ঐতিহ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হজরত হাসান ইবনে আলি (রা.) কারও সন্তান জন্মের সংবাদ পেলে একটি দোয়া পড়তেন—

دُعَاء: بَارَكَ اللهُ لَكَ فِى المَوْهُوبِ لَكَ وَشَكَرْتَ الْوَاهِبَ وَبَلَغَ أَشُدَّهُ وَرُزِقْتَ بِرَّهُ

অর্থ: আল্লাহ তোমার জন্য এই সন্তানকে বরকতময় করুন, তুমি দানকারী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। সন্তান পূর্ণ বয়সে উপনীত হোক এবং তার কাছ থেকে কল্যাণ লাভের তাওফিক তোমাকে দেওয়া হোক।

ইসলামী জ্ঞানী ব্যক্তিরা নবজাতকের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই সন্তান জন্মের পর বাবা-মায়ের উচিত আনন্দের পাশাপাশি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং সন্তানের নেক জীবন, সুস্থতা, কল্যাণ ও দ্বীনের ওপর অটল থাকার জন্য দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবজাতককে নেক ও সৎ সন্তান হিসেবে কবুল করুন, তাদের জীবনে বরকত দান করুন এবং বাবা-মাকে সন্তান পালনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দিন। আমিন।