চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে চলতি বর্ষা মৌসুমে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মধ্যে অনেকের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।
এবার বর্ষায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার বাড়ার কারণেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ৪০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন নতুন করে ৪ থেকে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বর হলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
সরেজমিনে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মশারি ব্যবহার করে রোগীদের পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত উপজেলার বালিহুদা গ্রামের নাজিমুদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। পরে জীবননগর হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কাশিপুর গ্রামের ইয়ামিন হোসেন বলেন, ঢাকায় কাজ করার সময় জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে জীবননগর হাসপাতালে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। তিন দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে। এবার সারাদেশেই ডেঙ্গুর বিস্তার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা না থাকায় প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদের পানির ট্যাংক, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, ড্রেন কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের কোনো স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানান।
ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা আরও বলেন, হাসপাতালে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে রোগীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নিয়মিত সরকারি মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।