ছেঁড়া কাপড়-বেঞ্চ দিয়ে ভোটের গোপন কক্ষ, বরাদ্দ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ ছেঁড়া ও নিম্নমানের কাপড় এবং ভাঙা বেঞ্চ দিয়ে তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বরাদ্দের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করে আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসনের কিশোরগঞ্জ অংশে ৭৮টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৪১৯টি গোপন কক্ষের মধ্যে অধিকাংশই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রতি গোপন কক্ষের জন্য ১২০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী সেগুলো প্রস্তুত করা হয়নি বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে পুটিমারি ইউনিয়নের ভেড়ভেড়ি মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভেড়ভেড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়ভিটা এ ইউ বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, গোপন কক্ষের পর্দা হিসেবে ছেঁড়া ও পুরোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠামো তৈরি করা হয়েছে ভাঙা ও নড়বড়ে বেঞ্চ দিয়ে। এতে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ভোটার নাসির উদ্দিন বলেন, গোপন কক্ষে গিয়ে সিল মারতে গেলে দেখা যায়, শুধু এক টুকরো কাপড় ঝুলানো। বাইরে থেকে সব বোঝা যায়, এতে গোপনে ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। আরেক ভোটার নাসিমা বেগমের অভিযোগ, পুরোনো কাপড় আর উল্টো করে রাখা ভাঙা বেঞ্চ দিয়ে কক্ষ বানানো হয়েছে, সেখানে ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ নেই।

দক্ষিণ ভেড়ভেড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে তাড়াহুড়ো করে গোপন কক্ষ তৈরি করতে হয়েছে। যা পাওয়া গেছে, তা দিয়েই ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভেড়ভেড়ি মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোশফেকুর রহমান জানান, ডেকোরেশনের লোকজন পুরোনো কাপড় ও কিছু বেঞ্চ দিয়ে কক্ষ তৈরি করেছে, বিষয়টি কেউ তদারকি করেনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তকদির আলী সরকার বলেন, গোপন কক্ষ তৈরির দায়িত্ব প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের। সেখানে অনিয়ম বা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করার কথা। বিষয়টি জানালে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।