
পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানে ছত্রভঙ্গ হয়েছে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী শিক্ষকদের প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় অভিমুখী পদযাত্রা। রোববার দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে শিক্ষকরা শাহবাগে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। শিক্ষকরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।
শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন। জাদুঘরের সামনে ব্যারিকেড দেওয়ার পরও তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে ব্যবস্থা নেয়। পরে শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে অবস্থান নেন।
বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ওসি জানান, শিক্ষক নেতাদের প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে যায় এবং পরে ফিরে আসে। বর্তমানে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচ শিক্ষক আহত হন। আহতরা হলেন—আনোয়ার হোসেন (৩৫), ফরিদুল ইসলাম (৩০), আমিনুল (৩৫), মিজানুর রহমান (৩৫) এবং মোছা. মারুফা আক্তার (২৫)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতদের সঙ্গে থাকা ঝালকাঠির এক মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, “জাতীয়করণের দাবিতে আমরা ১৯ তারিখ থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলাম। আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে শাহবাগে পুলিশ জলকামান ও লাঠি নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।”
সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষকরা চারুকলার সামনেই অবস্থান করছিলেন। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, “তাদের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দিয়েছে, তবে মূল সমাবেশ এখনও সেখানে রয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট। সেখান থেকে তারা পদযাত্রার ঘোষণা দেন।
তাদের ছয় দফা দাবি হলো—
১. স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ বাতিল;
২. কোডবিহীন নিবন্ধিত মাদরাসাগুলোকে শিক্ষা বোর্ডের কোডে অন্তর্ভুক্ত করা;
৩. স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন;
৪. পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা ও নীতিমালা–২০২৫ অনুমোদন;
৫. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা;
৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো এবতেদায়ী মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।