নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের উৎপাত ঠেকাতে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর চার্জশিট দ্রুত দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ব্যাপারে প্রসিকিউশন বিভাগকে সর্বোচ্চ আন্তরিক হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানপন্থী শক্তিগুলোকে সংঘবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে বলেও মত এসেছে। উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সম্প্রতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই চার থেকে পাঁচ মিনিটের এসব মিছিল হচ্ছে। ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়ও মিছিল হয়েছে। তবে এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

রাজধানীর বাংলামোটর, গুলশান, ধানমন্ডি ও গুলিস্তান এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এর মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় শতাধিক কর্মী নিয়ে মিছিল করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যা দীর্ঘদিন পর বড় উপস্থিতি হিসেবে দেখা যায়।

নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানপন্থী একটি শক্তির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে এই বড় মিছিল বের হয়। পরবর্তীতে ওই নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ওমর ফারুক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যকেই আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এসব দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিদিনই গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর বাইরের এলাকাতেও একই ধরনের তৎপরতা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম শানতু বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।