কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জিওফ্রে হিন্টন এখন এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, খুব শিগগিরই এআই মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে। একপর্যায়ে তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্টন বলেন, ‘হয়তো এই নতুন প্রযুক্তি ছাড়া পৃথিবী আরও ভালো থাকতো।’ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নিজের অনুশোচনা ও উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।

হিন্টনের আশঙ্কা, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই এআই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থা কিংবা বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

‘গডফাদার অব এআই’ হিসেবে পরিচিত হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ও মেশিন লার্নিংয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২০২৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তিনি। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ তৈরি করতে ২০২৩ সালে গুগল ছাড়েন এই বিজ্ঞানী।

হিন্টনের মতে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি শুধু সাইবার হামলা নয়; বরং একসময় মানুষের ওপর এর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। পাশাপাশি কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং অপরাধমূলক কাজে এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তার।

তবে এআইয়ের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন না হিন্টন। তার মতে, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা, সরকারি নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান