বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও প্রশাসনিকভাবে পরাধীন থাকলে স্বাধীনতা টেকসই নয়: সাবেক প্রধান বিচারপতি
বিচার বিভাগ রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন হলেও প্রশাসনিক দিক থেকে পরাধীন থাকলে সেই স্বাধীনতা টেকসই হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেন, সাংবিধানিক স্বাধীনতা তখনই কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাঠামো, সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত থাকে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত বাৎসরিক আইন বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার যে আদর্শ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তার কাগজে-কলমে ঘাটতি ছিল না। মূল সমস্যা ছিল এসব আদর্শ বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় বারবার একই চিত্র দেখা গেছে। রাজনৈতিক ন্যারেটিভ পরিবর্তিত হলেও সেই অনুপাতে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস প্রতিষ্ঠানকে পথ দেখাবে, প্রতিষ্ঠান ইতিহাসের কাছে জিম্মি থাকবে না। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে এগিয়ে যেতে হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে তিনি একটি ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এ ঘটনাকে সাংবিধানিক শূন্যতা হিসেবে না দেখে সাংবিধানিক পুনর্গঠনের একটি শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে শুধু সংবিধানে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকাই যথেষ্ট নয়। বাস্তব অর্থে সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।