রিজিক আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রতিটি মানুষের জন্য নির্ধারিত এক নেয়ামত। মানুষ চেষ্টা করে, আর আল্লাহ সেই চেষ্টা বরকত ও ফল আকারে পূরণ করেন। কুরআন ও সুন্নাহতে রিজিক বৃদ্ধির, কষ্ট দূরীকরণের এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপারে বহু নির্দেশনা রয়েছে। নিচে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো, যেগুলো নিয়মিত করলে ইনশাআল্লাহ রিজিক ও কর্মে প্রশস্ততা আসবে।

‎১. গুরুত্ব ও মহব্বত নিয়ে জামাতের সাথে নামাজ আদায়, ‎নামাজ রিজিকের মুল চাবিকাঠি। বিশেষ করে জামাতে নামাজ, যেটি ব্যক্তিগত নামাজের চেয়ে ২৭ গুণ বেশি নেকি এনে দেয়। মানুষ যখন নামাজকে গুরুত্ব দেয়, আল্লাহ তার কাজে বরকত দান করেন।

‎২. নিয়মিত সালাতুল হাজত আদায়, ‎যা চাওয়া হয়, রিজিক, কাজ, চাকরি বা প্রয়োজন, সালাতুল হাজত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে সরাসরি সাহায্য প্রার্থনা করে। এটি দুআ কবুলের অন্যতম মাধ্যম।

‎

‎‎৩. বড় কোনো গুনাহের বদ অভ্যাস থাকলে তাওবা করা, ‎রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুনাহ। তাই কারও মধ্যে কোনো বড় গুনাহ বা হারাম অভ্যাস থাকলে, তাওবা করা অতি জরুরি। তাওবা রিজিকের দরজা খুলে দেয়।

আরও পড়ুন: গভীর রাতে যে নামাজে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হোন

‎

‎‎৪. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

‎

তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তোমাদের ওপর আসমান থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং সম্পদ, ছেলে-সন্তান বৃদ্ধি করবেন। ‎ইস্তেগফার রিজিক, সুখ, সচ্ছলতা ও শান্তির কারণ। (সুরা নূহ, আয়াত: ১০-১২)

‎

‎৫. মা-বাবার সেবা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, ‎মা-বাবা মামলা করা, তাদের দোয়া নেওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের খোঁজ-খবর রাখা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।

‎

‎হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,

‎যে ব্যক্তি রিজিকের প্রশস্ততা ও জীবনের বরকত চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। ‎(আল আদাবুল মুফরাদ ২৮/৫৬)

‎

‎‎৬. হালাল রিজিকের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, ‎হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, হালাল রুজির জন্য শ্রম করা ইবাদত। ‎হালাল উপার্জন রিজিকে বরকত এনে দেয় এবং হারাম উপার্জন বরকত নষ্ট করে দেয়। ‎(মুসলিম: ১০৪০)

‎

‎‎৭. রিজিকের জন্য কুরআনের দোয়া পড়া, ‎নবী মুসা (আ.)-এর দোয়া: ‎رَبِّ إِنِّی لِمَاۤ أَنزَلۡتَ إِلَیَّ مِنۡ خَیۡرࣲ فَقِیرࣱ ‎অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য যে কল্যাণ ও রিজিক পাঠাবেন— আমি তার মুখাপেক্ষী। (সূরা কাসাস, ২৪) ‎এই দোয়াটি রিজিকের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত উপকারী দোয়া।

‎

‎‎৮. ওজুর পরে রিজিক বৃদ্ধির দোয়া করা, ‎ওজুর পরে যে দোয়া পড়া হয়, তাতে রিজিকের বরকত চাওয়া আছে, হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন,

‎

‎اللَّهُمَّ اغْفِرْلِيْ ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَباَرِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করুন, আমার ঘর-বাড়িতে প্রশস্ততা দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন। (মুসনাদ আহমাদ ৪৫০৬)

‎

‎

‎৯. দুই সিজদার মাঝের দোয়ায় রিজিক চাওয়া, ‎হাদিসে এসেছে  নবীজি (সা.) দুই সিজদার মাঝে যেসব দোয়া পড়তেন, তার মধ্যে রিজিকের দোয়াও রয়েছে,‎… وَارْزُقْنِيْ …

‎অর্থ: হে আল্লাহ! … আমাকে রিজিক দান করুন। ‎(আবু দাউদ ৮৫)

‎

‎এটি নামাজে নিয়মিত উচ্চারিত দোয়া, তাই রিজিকের জন্য এটি বিশেষ বরকতময়।

‎

‎১০. প্রতিদিন মাগরিবের পর সূরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করা, ‎হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করবে— তাকে দারিদ্র কখনো স্পর্শ করবে না। (বাইহাকি, শু‘আবুল ঈমান: ২৪৯৮)

‎

‎সূরা ওয়াকিয়া রিজিকের সুরক্ষা এবং দারিদ্রতা থেকে নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত পরীক্ষিত আমল। ‎কাজেই রিজিক শুধু টাকা-পয়সা নয়; মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য, পরিবারে সুখ এবং জীবনে বরকত, সবই রিজিকের অংশ। আমরা যদি কথাগুলো মেনে চলতে পারি আমাদের জীবন হবে সমৃদ্ধ ও বরকতময়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন, আমন!