
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কলেজের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে এই অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর তিনি গোপনে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে আগামী ১৮ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৮ আগস্টের মধ্যে কলেজগুলোতে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ব্যবহারিক খাতা ও শিট দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু হয়।
চলতি বছর দুলারহাট মডেল কলেজ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ২৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩০। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। সেই হিসাবে কেবল আইসিটি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার নামেই ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, 'ফর্ম পূরণের সময় শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত সব ফি আমরা পরিশোধ করেছি। এরপরও আইসিটি পরীক্ষার শিট দেওয়ার সময় স্যার আমাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন। অতিরিক্ত এই টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একজন প্রভাষক বলেন, 'ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষা বোর্ড কোনো অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করেনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এতে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।'
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আইসিটি শিক্ষক ইমাম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুলারহাট মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইউছুফ আলী বলেন, 'আইসিটি শিক্ষক কোনো প্রক্রিয়ায় বা কেন টাকা নিয়েছেন, সেটি আমি কলেজের হিসাবপত্র না দেখে বিস্তারিত বলতে পারব না।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ বলেন, 'বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
যোগাযোগ করা হলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, 'ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি আজই আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।