
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের অনার্স বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও অসংগতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সম্মেলনে ইংরেজি, বাংলা, প্রাণিবিদ্যাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের ফলাফল মূল্যায়নে একাধিক অসংগতি ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় নিয়ে কথা বলেন তারা।
সম্মেলনে ২০২১-২২ সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ প্রদীপ বলেন, আমরা যারা পরীক্ষা দিয়েছি তাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে গণহারে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেল করা শিক্ষার্থীরা বলেছেন যে, সবাই ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন। আমার কথা হলো, যদি ভালো পরীক্ষা দেওয়া হয় তাহলে তাদের খাতা মূল্যায়ন সেভাবে কেন করা হচ্ছে না, আর যদি তারা আসলেই ফেল করে থাকে তাহলে সেই খাতাগুলা শিক্ষার্থীদের কাছে উন্মোচন করা হোক।
সম্মেলনে কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, সম্প্রতি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বিভিন্ন বিভাগের একাধিক কোর্সে দেখেছি একই ধরনের গ্রেড প্রদান করা হয়েছে। কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে দেখেছি যিনি যে দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই ফলাফল আসেনি, আর যে দুই বিষয়ে তিনি পরীক্ষাই দেননি সেই দুই বিষয়ে ফলাফল এসেছে। আমারা দেখছি, ১৪টা বিভাগের একাধিক খাতা রিচেকের জন্য আবেদন পড়েছে, যেখানে মাত্র ৬টি বিভাগের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী ভালো পরীক্ষা দিলেও তাদের ফলাফল খারাপ এসেছে। একজনের লেখার ধরন আপনার কাছে পছন্দ না হওয়ায় তাই তাকে ফেল করিয়ে দেওয়া তো জুলুমের মধ্যে পড়ে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা যতদূর জানি পরীক্ষায় হাজিরা খাতায় সই না দিলে রেজাল্ট আসে না। কিন্তু একজন পরীক্ষার্থী যে দুটি পরীক্ষা দেননি, হাজিরাও দেননি তার ফলাফল কীভাবে আসে?তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইংরেজি বিভাগে লিটারেসি বিষয়ে গণহারে ২.৫০ দেওয়া হয়েছে। এমনকি যিনি সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেছে তাকেও ২.৫০ দেওয়া হয়েছে। আর যে শিক্ষার্থী পাঁচ সাবজেক্টে ফেল করেছে তাকেও ২.৫০ দেওয়া হয়েছে। ক্ল্যাসিকাল ট্রান্সলেশন সাবজেক্টেও সবাইকে গণহারে ২.৫০ দেওয়া হয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েস্টিক সাবজেক্টেও সবাইকে ২ থেকে ২.৫০ দেওয়া হয়েছে, আবার অনেকে খারাপ পরীক্ষা দিয়েছে এরকম স্বীকারোক্তিও দিয়েছে, তারপর ও তাদের রেজাল্ট ৩ পয়েন্টের উপরে।
সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ফলাফল মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করাসহ অবিলম্বে পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়ন করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানান। এছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী যেন মূল্যায়নজনিত ভুল বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজের অধিভুক্ত বাতিল ঘোষণা করে। তবে শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২৪ পর্যন্ত বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের ঢাবির অধীনেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩-২৪ পরবর্তী সেশনগুলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে থেকে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।