মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই ক্যাম্প ডেভিডের অবকাশ শেষ করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মেরিন ওয়ানে করে ওয়াশিংটনে ফেরেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রোববার ক্যাম্প ডেভিড ছাড়ার কথা ছিল তার। তবে কেন নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ফিরেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি হোয়াইট হাউস।

ট্রাম্পের আগাম ফেরার সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সতর্কবার্তায় অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে। অঞ্চলটির বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ বা সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতার পেছনে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাতের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার সৌদি আরব জানায়, হুতিরা রাজধানী রিয়াদে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদের বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। রাজধানীর বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া ও আগুনও দেখা গেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর রিয়াদকে লক্ষ্য করে এটিই হুতিদের প্রথম হামলার চেষ্টা। এর আগে ইয়ানবু, তায়েফসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং যেকোনো সময় আরও অবনতি ঘটতে পারে। ইরান ও তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ, ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

এদিকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।