চট্টগ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিককে হুমকি ও গালিগালাজ এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬-এ মামলাটি (নং-৭১১/২০২৬) দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন। মামলায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইনের ভগ্নিপতির সঙ্গে আনোয়ারা থানার বরুমছড়া এলাকার বাসিন্দা জহির আহমদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গত ১১ সেপ্টেম্বর কয়েকজন সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বরুমছড়ায় যান সাদ্দাম।

অভিযোগে বলা হয়, তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ হন জহির আহমদ। একপর্যায়ে তিনি সাদ্দাম হোসাইন ও তাঁর সহকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করারও হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এর পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর জহির আহমদ তাঁর ‘Jahir Ahmed’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি অশালীন পোস্ট দেন। এতে সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন, তাঁর বাবা—একজন সাবেক ইউপি সদস্য—এবং তাঁর প্রবাসী ভগ্নিপতিকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, ওই পোস্টের কারণে সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ ঘটনায় হুমকি ও মানহানির অভিযোগ এনে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে বাকলিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এবং পরিবারের প্রতি অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জহির আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। তাই এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন।