
গাজার দিকে ত্রাণবাহী ট্রাক পাঠিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে মিশর। স্থানীয় সময় রোববার (২৭ জুলাই) মিশর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে এসব ত্রাণবাহী ট্রাক। এর আগে, ইসরায়েল গাজায় আকাশপথে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের ঘোষণা দেয় এবং নির্দিষ্ট মানবিক করিডোর খোলার কথাও জানায়। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে, বিশেষ করে গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির কারণে, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এএফপির ফুটেজে দেখা গেছে, মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে সাদা বস্তা বোঝাই বড় বড় ট্রাক গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। কিছু ট্রাকে ছিল মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের লোগো, আবার কিছু ট্রাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড— যেখানে লেখা ছিল, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত - গাজায় মানবিক সহায়তা - গাজায় পানি সহায়তা প্রকল্প’।
তবে সমস্যা রয়ে গেছে রাফাহ সীমান্তে। সরাসরি গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না এই ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো, কারণ গত বছর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখল করে এবং তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ট্রাকগুলোকে ঘুরিয়ে কেরেম শালোম (কারাম আবু সালেম) ক্রসিং দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে, যা এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। এখানে ত্রাণের মান ও নিরাপত্তা যাচাই করে তবেই দক্ষিণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে বড় কমেডি উৎসব এবার সৌদিতে
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে— গাজার তিনটি এলাকায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই ‘কৌশলগত বিরতি’ চলবে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত। যে তিনটি এলাকায় সামরিক বিরতি কার্যকর থাকবে তা হলো— মুওয়াসি, দেইর আল-বালাহ এবং গাজা শহরের কিছু অংশ। এই বিরতির উদ্দেশ্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সহজ করা।
মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও ট্রাক চলাচলের ভিডিও প্রকাশ করে ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রম নিশ্চিত করেছে।

এই সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো গাজার দুঃসহ মানবিক সংকট মোকাবিলায় একান্ত প্রয়োজনীয় হলেও, বাস্তবায়নে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। তবুও, আন্তর্জাতিক চাপ ও মানুষের আর্তনাদ এই সহায়তার পথ খুলে দিয়েছে— যার সুফল পেতে আশায় বুক বেঁধেছে গাজার মানুষ।
সূত্র- রয়টার্স
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।