
ইফতেখার হোসাইন ,প্রতিবেদক :
উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় আক্রমণ প্রতিহত করতে ভয়ঙ্কর এবং প্রায় আত্মঘাতী কৌশল ব্যবহার করছে। ধরা পড়ার আগে চিনের নিচে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো, ড্রোন আক্রমণ প্রতিরোধে সহযোদ্ধাদের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার এবং দ্রুত আক্রমণের জন্য দেহবর্ম খুলে ফেলার মতো কৌশল তারা অবলম্বন করছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ১২,০০০ উত্তর কোরীয় সৈন্য রাশিয়ায় মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে ৪,০০০ জন হতাহত হয়েছে।
নির্মম যুদ্ধকৌশল ও আধুনিক বাস্তবতা
ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার পোকার বলেন, উত্তর কোরীয় সৈন্যরা আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। তারা ১৯৮০ সালের যুদ্ধের মানসিকতায় যুদ্ধ করে। ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে তারা বারবার ফ্রন্টাল আক্রমণ চালায়, যদিও এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়।

কোম্পানি কমান্ডার আমুর জানান, কিছু উত্তর কোরীয় সৈন্য দ্রুতগামী আক্রমণের জন্য দেহবর্ম ও হেলমেট খুলে ফেলে। তারা জিগজ্যাগ পথে দৌড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি কঠিন করে তোলে।
সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা
উত্তর কোরীয় সৈন্যদের ব্যাকপ্যাকে ন্যূনতম পানি, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পাওয়া গেছে। তাদের হাতে আধুনিক একে-১২ রাইফেল এবং প্রচুর গ্রেনেড ছিল।
ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী উত্তর কোরীয় সৈন্যদের আটক করার ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় আহত সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রুশ বাহিনী সেই সৈন্যকে বাঁচাতে তীব্র গোলাবর্ষণ শুরু করে।

আনুগত্য ও কৌশলের নথি
উত্তর কোরীয় সৈন্যদের কাছ থেকে পাওয়া নোটে কিম জং উনের প্রতি আনুগত্যের শপথ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রত্যয় পাওয়া গেছে। এক নথিতে ড্রোন প্রতিরোধের কৌশল উল্লেখ ছিল, যেখানে একজন সৈন্যকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
নির্মমতা ও সামরিক মানসিকতা
আমুরের মতে, উত্তর কোরীয় সৈন্যরা ইউক্রেনীয় বন্দিদের জীবিত নেয় না; বরং মাথায় গুলি করে হত্যা করে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের এই নির্মম কৌশল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস
ভিডিও নিউজ পেতে ক্লিক করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন Heaven tv.pres
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।