
পাবলিক প্লেসে ধূমপান: আইন থাকলেও প্রয়োগ শূন্য — নজরদারির অভাব
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না — এটাই দেখা যায়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা ও শাস্তির বিধান থাকলেও প্রতিদিনই আইন ভাঙার ঘটনা হয় এবং enforcement দুর্বল থাকার অভিযোগ আছে।
ডিএমপি ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের সকল অফিস, থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন্স, করিডোর, ওয়াশরুম ও ভবনের অভ্যন্তরে ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে। নির্দেশ ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলে একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তবুও অনেক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর কাছে এসব আদেশ অজানা আছে কিংবা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না।
ডিএমপি সদর দফতরের উপ-কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছে, পুলিশে এমন নির্দেশনার উদ্দেশ্য সুগঠিত, আরামদায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা; এটি নতুন কিছুও নয়, বরং বিদ্যমান নিয়মকে পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে — কেউ বলছেন সিগারেট খাওয়া ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আর কেউ বলছেন প্রকাশ্যে ধূমপান অন্যদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঢাবি হল প্রভোস্ট ড. মো. ফারুক শাহ বলেন, উদ্দেশ্য জরিমানা নয়, বরং ধূমপায়ীকে সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করা; যারা চান, তারা নিজের রুমেই ধূমপান করতে পারেন, যতক্ষণ রুমমেটদের অসুবিধা না হয়।
তামাক ও নেশা নিরোধ সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরুপরতন চৌধুরী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি পুনরায় স্মরণ করান—আইনে পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং পাবলিক প্লেস বলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদালত-কাছারি, শপিংমল, পরিবহনস্টেশন, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এসব স্থলে ধূমপান করলে আশপাশের লোকজনও অসুবিধায় পড়ে এবং তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আদেশ জারি করলেই হবে না — জনসচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনে আর্থিক জরিমানা আরোপের মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই পাবলিক প্লেসে ধূমপান কমানোর সেরা উপায়।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।