রাতের আকাশে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা, ঘণ্টায় খরচ ৫ হাজার ডলার
রাতের অন্ধকারে সূর্যের আলো পৌঁছে দিয়ে তা ঘণ্টা হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক স্টার্টআপ রিফ্লেক্ট অরবিটাল। এ লক্ষ্যে মহাকাশে আয়নাযুক্ত স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক প্রদর্শনের পর পরিবেশবিদ, স্থানীয় বাসিন্দা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে তারা।
গত ১০ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার লোন পাইন এলাকার কাছে মহাকাশ থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার সম্ভাব্য প্রভাব প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরীক্ষায় কোনো স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়নি। প্রায় তিন মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আলো ছিল পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়ে সামান্য বেশি উজ্জ্বল। এ সময় উদ্ধারকর্মীরা ওই আলো ব্যবহার করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের অনুশীলনও করেন।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে প্রায় ৬২৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ৫০ হাজার আয়নাসজ্জিত স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি স্যাটেলাইটের আয়না সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার প্রশস্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেবে। একটি স্যাটেলাইট প্রায় চার মিনিট আলো সরবরাহের পর দিগন্তের আড়ালে চলে যাবে। এরপর অন্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আলোর সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
প্রযুক্তিটির প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামে একটি স্যাটেলাইট তৈরির পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে ১৮ মিটার বাই ১৮ মিটার আকারের আয়না থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইটটির অনুমোদন দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ প্রযুক্তি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং রাতের বেলায় উদ্ধার অভিযানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে এ সেবা ব্যবহারে ঘণ্টাপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।
অন্যদিকে, এ প্রযুক্তির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কা, মহাকাশ থেকে প্রতিফলিত আলো বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়লে রাতের স্বাভাবিক অন্ধকার ব্যাহত হতে পারে। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র, মানুষের ঘুম এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।