মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়তে পারেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকার বাকি দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কতটা নির্বিঘ্ন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই বড় বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলীয় শক্তি কমে যাবে। ফলে তার প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা কিংবা নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের তদন্তের মুখে পড়তে হচ্ছে না প্রশাসনকে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যেতে পারে।

সে ক্ষেত্রে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড তদন্তের আওতায় আসতে পারে। একই সঙ্গে জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বিচার বিভাগের ভূমিকা এবং পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা বাজেট বরাদ্দের নথিও খতিয়ে দেখতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিপাকে পড়বেন ট্রাম্প। মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এসব নিয়োগ আটকে দেওয়া কিংবা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটি জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি আরও জোরালো হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার সেন্টার ফর পলিটিক্সের পরিচালক ল্যারি সাবাতো রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই জয়ী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা শুরুতে অনেকেই কল্পনা করেননি।

তার মতে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ তার কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানাচ্ছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়ে নানা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আদালত তাকে সংবিধান ও আইনের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সাবাতো।

তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবিধান, আইন কিংবা কংগ্রেস—কোনো কিছুকেই যথাযথ গুরুত্ব দেন না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেন। এখন বড় প্রশ্ন হলো, আদালত তাকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করতে পারবে কি না। যদিও আদালতের সে ক্ষমতা রয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্টে রিপাবলিকানদের প্রভাব থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সাবাতোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সময়। দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বর্তমানে গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে অভিশংসন। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তারা ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে পারবেন।

এর আগে প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। এবারও ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন না ট্রাম্প। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।