জনপ্রিয়তায় তলানিতে ট্রাম্প, জরিপে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক ভোটার। সোমবার শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়ছে। দেশজুড়ে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেসে তারা কোন দলকে দেখতে চান। জবাবে ৪৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। রাজনৈতিক পরিভাষায় এ ধরনের জরিপকে ‘জেনেরিক ব্যালট’ বলা হয়।
তবে ডেমোক্র্যাটদের ৮ শতাংশীয় পয়েন্টের এই ব্যবধান আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। এর আগে দলটি রিপাবলিকানদের চেয়ে ১১ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।
জেনেরিক ব্যালটের মাধ্যমে কংগ্রেসে কোন দলকে দায়িত্বে দেখতে চান, সে বিষয়ে দেশজুড়ে ভোটারদের সামগ্রিক মনোভাব জানা যায়। তবে এতে অঙ্গরাজ্য ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। অথচ এসব নির্বাচনের ফলের ওপরই নির্ভর করবে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জ তুলনামূলক বেশি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলাস্কা ও মিশিগানে দলটিকে নিজেদের অবস্থান রক্ষায় লড়তে হচ্ছে।
ট্রাম্প নিজে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও পুরো ভোটের রাজনীতিতে তাকে ঘিরেই আলোচনা বেশি হচ্ছে।
জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কার্যক্রমের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এই হার একই ছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা তার সর্বনিম্ন অবস্থান।
নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫০ শতাংশ জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের ভোট হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। বিপরীতে ১৩ শতাংশ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেবেন। আর ৩৩ শতাংশ ভোটারের মতে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোনো প্রভাব ফেলবেন না।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিংবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ইস্যুতে কোন দল ভালো করবে, এমন প্রশ্নে ৪৩ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন ৩২ শতাংশ।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহও তুলনামূলক বেশি। দলটির আশা, এই আগ্রহ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে তাদের সুবিধা দেবে। জরিপে ৪৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট সমর্থক জানিয়েছেন, এ বছর ভোট দিতে তারা ‘খুবই উৎসাহী’। বিপরীতে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৩৩ শতাংশ।
রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। জরিপটির ত্রুটিসীমা ২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
শিরোনামটি আরও সংক্ষিপ্ত করুনসংবাদটি আরও ঝরঝরে করে লিখুন
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।