
স্থগিতের আশঙ্কা কাটিয়ে আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে আবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিপিএলের দুটি ম্যাচ বয়কট করেছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে সেই ম্যাচ দুটি আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের নাভানা টাওয়ারে বিসিবি কার্যালয়ে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি কর্মকর্তারা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্রিকেটাররাও নাভানা টাওয়ারে গিয়ে আলোচনায় বসেন। ওই বৈঠকের পরই বিপিএল পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেস–চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স–সিলেট টাইটানসের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়। এখন ম্যাচ দুটি আজ শুক্রবার দুপুর ২টা ও সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবারের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে শনিবার এবং শনিবারের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে রবিবারে। এছাড়া, আগামী ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচ একদিন পিছিয়ে ২০ জানুয়ারি আয়োজন করা হবে। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালের সূচি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না গেলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না— এ বিষয়ে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিচালক পদ থেকে তার পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি পদত্যাগ করেননি।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিসিবি তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এদিকে, কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটাররা বিপিএল বয়কটের পেছনে আরও চারটি কারণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ঢাকার ক্রিকেটের চলমান সংকট নিরসন, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।