১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৎকালীন ডিসির বর্ণনা

১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে নিহত হন। সে সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ছিলেন জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী। তিনি দাবি করেন—জিয়ার হত্যাকাণ্ড ছিল একটি পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের ফল।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর প্রথমদিকে লাশ কোথায় নেওয়া হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। পরে জানা যায় সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য রাঙুনিয়ার একটি নির্জন স্থানে তাকে দাফন করেন একজন মাওলভীর সহায়তায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের নির্দেশে লাশ উদ্ধার করে সেনানিবাসে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। চট্টগ্রামে লালদীঘি ময়দানে গায়েবানা জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল।

হত্যার আগের দিন রাতে সার্কিট হাউসে জিয়ার সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। সেদিন তিনি বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে চট্টগ্রাম সফরে ছিলেন। জিয়া দুপুরে সার্কিট হাউসে বৈঠকের পর চন্দনপুরা মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন। এরপর দলীয় বৈঠক রাত পর্যন্ত চলে। বৈঠক শেষে তিনি ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারকে পরদিন সকালে আবার আলোচনার কথা জানিয়ে বিশ্রামে যান।

ডিসি জানান, জিয়ার এই সফর খুবই আকস্মিক ছিল—মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তাকে জানানো হয়েছিল। সাধারণত প্রেসিডেন্ট সফরের প্রস্তুতি নিতে এক মাস সময় দেওয়া হয়। সফরের দিন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ব্রিগেডিয়ার আজিজ উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর উপস্থিত ছিলেন না, যা তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট শহরের রাস্তা-পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিকেল ও রাত পর্যন্ত দলীয় বৈঠক চলে এবং পরদিন ভোরে ঘটে হত্যাকাণ্ড।

জিয়াউদ্দিন বলেন, আজও অনেক ঘটনা অজানা এবং হত্যার পিছনে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন।