আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই চার কোটি নারীপ্রধান পরিবার পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি সম্পূর্ণ সর্বজনীন কর্মসূচি। হতদরিদ্র থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির নারীপ্রধান পরিবার পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতায় আসবে।

তিনি আরও জানান, একই সঙ্গে দেশের ২ কোটি ১০ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চলছে। ভূমিহীন কৃষক থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের কৃষকরাও এই কার্ড পাবেন বলে জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে উত্তরাঞ্চলকে বের করে আনতে প্রধানমন্ত্রীর আলাদা নির্দেশনা রয়েছে। আগামী দিনে মানুষের কল্যাণে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

এ সময় সরকারের আরও কয়েকটি কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার মসজিদ এবং ৪০ লাখ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানি ভাতা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো, ১ লাখ স্বাস্থ্য আপা নিয়োগ, বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলা ও তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।