জুবাইদা রহমান ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদ করতে পারতেন

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদ না করে ওই সম্মেলনে যাওয়া দুঃখজনক; জুবাইদা রহমান চাইলে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারতেন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ২৫ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশ নেন জুবাইদা রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প। দুই দিনের এই আয়োজনে ৪৫টির বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন।

সেই সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে ফরিদা আখতার বলেন, বিশ্বের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক ডাকা হলেও একই সময়ে ইরানে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে বহু শিশুসহ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে, যা নিন্দনীয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মার্কিন হামলার পরও ইরানের মানুষ প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং মাথা নত করেনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করতে চায়, আর ইরান সেই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে।

ইরানে নারীদের অবস্থান প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, বিভিন্ন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং তারা নিজেদের সংগ্রাম নিজেরাই চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে হামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান মূলত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত করছে।

‘সাম্রাজ্যবাদী-জায়ানবাদী আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক ওই সভায় ইরানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উদ্দেশে ফরিদা আখতার বলেন, যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ থেকে ইরানের প্রতি সংহতি অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে ইরানের আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান বিশ্বজনমতের সমর্থন পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমেরিকাকে দুর্বল করতে হলে তার অর্থনীতিকে দুর্বল করা দরকার এবং হরমুজ প্রণালি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও ঢাকায় ইরানের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে লেখক ফরহাদ মজহার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।