
বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলমকে গাজামুখী নৌযান থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অপহরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক পেরিয়ে শাঁখারীবাজার ও বাহাদুর শাহ পার্কসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন— “ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি”, “প্যালেস্টাইনে মানুষ মরে, জাতিসংঘ কি করে?”, “স্বপ্ন দেখি প্রতিদিন, স্বাধীন হবে ফিলিস্তিন”, “তুমি কে আমি কে, প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন”, “শহিদুল আলম আটক কেন, জাতিসংঘ জবাব চাই।”
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও আপ বাংলাদেশের নেতা মাসুদ রানা বলেন, “গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ফিলিস্তিনে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার নিরীহ মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। প্রয়োজনে গাজার পথে লং মার্চেও প্রস্তুত।”
বাগছাস (বাংলাদেশ গণসংস্কৃতি সংসদ) জবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আবেগের প্রতীক। ইসরায়েল এখন শুধু হামলাই নয়, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বন্ধ করছে। সর্বশেষ বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।”
ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনী শহিদুল আলমকে অপহরণ করেছে, অথচ আমাদের সরকার নীরব। এখন আর চুপ করে থাকার সময় নয়— ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি।”
ছাত্রশিবির জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শহিদুল আলম নিজেই জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি একা নন, আরও অনেক মানবাধিকারকর্মী ইসরায়েলের হাতে আটক আছেন। আমরা তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাই।”
এর আগে বুধবার এক ভিডিও বার্তায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)–এর গাজামুখী নৌযান থেকে শহিদুল আলমকে ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে।
উল্লেখ্য, এফএফসি দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে কাজ করছে, তবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায়ই এসব নৌবহর থামিয়ে নাবিক ও মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে থাকে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।