মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জনকে তিনটি অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

শুনানির আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন, সেনানিবাসের ভেতরে সাময়িক কারাগারে রাখা এবং অনলাইনে শুনানির আবেদন করেন। এসব আবেদন রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ওপরও শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ আমলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামির বিরুদ্ধে শুনানি হয়। এর মধ্যে একটি মামলা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাকে ঘিরে দায়ের করা হয়েছে। আজ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে আছেন)।

এছাড়া র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালকও রয়েছেন—বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ। তারা পলাতক। এছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম—তারাও পলাতক।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের আরেক মামলায় শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী—বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।

এই মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালককে—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। এছাড়াও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হককেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।