বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ কখনোই চায় না বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাকুক। তাদের উদ্দেশ্য হলো দেশে সবসময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত সৃষ্টি করা, যাতে একটি দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ ল স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “পি আর পদ্ধতির আড়ালে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মাঠে নেমেছে জামায়াত। জনগণ ভোট দেবে, কিন্তু তারা জানবে না তাদের প্রতিনিধি কে হবে—এটা ঠিক করবে দলের আমির। এভাবেই দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পি আর পদ্ধতির মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচাররা ফিরে আসতে পারে। এগুলো ভারতীয় এজেন্ডা, আর বাস্তবায়নে নেমেছে জামায়াত।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে পি আর পদ্ধতির কোনো উল্লেখ নেই এবং দেশের বাস্তব পরিস্থিতিও এ ব্যবস্থা সমর্থন করে না। অথচ কিছু গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা হাস্যকর।

সালাহউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াত নেতারা প্রশ্ন তুলছেন সরকার সাংবিধানিক কিনা। অথচ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আগ্রহে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই সরকার গঠনের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তবে রায়ে সরকারের মেয়াদের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত ছিল।”

তিনি জামায়াত নেতাদের সংবিধান ভালোভাবে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন কোন আইনের অধীনে হবে, সেটি সংবিধানে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্যের দাবি, গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্ধারণ করবে জনগণ। জনগণের মতামত সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে সংবিধান সংশোধনে চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। সংবিধান সংশোধনের একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচিত সংসদের হাতেই।