
মামলা না নেওয়ায় থানার ফটকে অবস্থান, আদালত প্রাঙ্গণে সন্তানের সামনে বাবা–মাকে মারধরের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদী ইরফান মিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরিবারটির অভিযোগ, মামলার আসামি তালিকায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম থাকায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা নিচ্ছে না। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর অপেক্ষার পর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ফটকে অবস্থান নেন তাঁরা।
তবে জেলা পুলিশ বলছে, ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে মামলা নেওয়া হবে।
হামলার শিকার ব্যবসায়ী ইরফান মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা, ছেলে জিদান (১৮) ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ। গত রোববার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে শিশু আবদুল্লাহর সামনেই বাবা–মাকে মারধরের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাজিয়ার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর শিশুপুত্রকেও পিটিয়েছে, এতে সে মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরফান মিয়া ব্যবসায়িক লেনদেনের ২৫ লাখ টাকা না পাওয়ায় ইসমাইল নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ইসমাইলের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আছেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান। রোববার আদালতে হাজিরার সময় বাদীপক্ষকে দেখে সাখাওয়াত হোসেন ক্ষিপ্ত হন এবং তাঁদের চলে যেতে বলেন। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাঁর নির্দেশে আইনজীবী খোরশেদ আলম, আল-আমিন ও সহকারী হিরণ বাদশাসহ কয়েকজন ইরফান ও তাঁর পরিবারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় রাজিয়া সুলতানা নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় দুটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরফান পরিবারের বিরুদ্ধেও সোমবার থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ জমা দেন বিবাদীপক্ষ ইসমাইলের ভাই আশরাফুজ্জামান। তাঁর দাবি, হামলার সূত্রপাত ঘটায় ইরফান ও তাঁর পরিবার, আর এতে তাঁদের আইনজীবী দলের সদস্যরা আহত হন।
সাখাওয়াত হোসেন খান নিজ সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওই পরিবারকে চিনি না। আদালত ও রাজনীতিতে আমার বিরোধীরা এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
সোমবার রাতে ফতুল্লা থানায় দেখা যায়, হাতে ও নাকে ব্যান্ডেজ বাঁধা ইরফান মিয়া স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। পাশে ক্লান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছোট্ট আবদুল্লাহ বলছে, “আম্মু, পিঠে ব্যথা করছে।” রাজিয়া সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন সন্তানকে বুকে টেনে।
তিনি বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের শিশুসন্তানের সামনে এমন নির্যাতনের শিকার হব—ভাবতেও পারিনি।”
ইরফান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাখাওয়াত হোসেনের নাম বাদ না দিলে তারা মামলা নেবে না। কিন্তু আমরা তাঁকে বাদ দিয়ে মামলা করব না।”
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, “ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি একাধিক অভিযোগ এসেছে। আমরা ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই করছি। আদালত প্রাঙ্গণের ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল; তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাখাওয়াত হোসেনের নাম বাদ দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি আমাদের কাছে অন্য আট–দশজনের মতোই একজন আইনজীবী। অভিযোগটি ভিত্তিহীন।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।