ইফতেখার হোসাইন ,প্রতিবেদক :

আপনার ঘুমের মান উন্নত করতে এবং সকালে আরও ভালোভাবে জাগ্রত হতে, বিশেষজ্ঞরা ফোনের বদলে একটি ডেডিকেটেড অ্যালার্ম ক্লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এখানে কেন ফোনকে ঘুমের সঙ্গী না বানানোই ভালো, তা পয়েন্ট আকারে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. ফোনের পরিবর্তে অ্যালার্ম ক্লক কেন ব্যবহার করবেন?

  • বিঘ্ন কমায়:
    ঘরের বাইরে ফোন রাখলে ঘুমের সময় বিভ্রান্তির সুযোগ কমে এবং ঘুমকে বিলম্বিত করার প্রবণতা কমে যায়।
  • রাতে স্ক্রল করার অভ্যাস কমায়:
    বিছানার পাশে ফোন থাকলে রাতে সহজেই স্ক্রল করার সুযোগ তৈরি হয়, যা ঘুম নষ্ট করতে পারে।
  • সকালের স্নুজিং এড়ায়:
    ফোনের স্নুজ বোতামে সহজে হাত চলে যায়, যা ভালো ঘুমের জন্য ক্ষতিকর।

২. ঘুমে স্নুজ বোতামের প্রভাব

  • একবার স্নুজ ভালো, বারবার নয়:
    একবার স্নুজ দিলে জাগ্রত হতে মানসিকভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে বারবার স্নুজ করলে ঘুমের মান কমে যায়।
  • REM ঘুম ভেঙে যায়:
    রাতের শেষে REM (Rapid Eye Movement) ঘুম গুরুত্বপূর্ণ হয়। এটি মেমোরি প্রসেসিং ও সৃজনশীল চিন্তার জন্য প্রয়োজনীয়। বারবার স্নুজ দিলে এই চক্র ভেঙে যায়।
  • অবিচ্ছিন্ন ঘুম জরুরি:
    প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত গভীর ঘুমের সুযোগ দিন। অ্যালার্মের আগে জেগে ওঠা বা স্নুজ দিয়ে সময় নষ্ট করা ঘুমের মানে কোনো উন্নতি আনে না।

৩. অ্যালার্ম ক্লকের বাড়তি সুবিধা

  • বিভিন্ন ফিচার:
    অ্যালার্ম ক্লকে লাইট, ভাইব্রেশন, শব্দ বা পাজল সমাধানের মতো ফিচার থাকে, যা আপনাকে বিছানা ছাড়তে উৎসাহিত করে।

৪. ফোন ঘুম নষ্ট করে কীভাবে?

  • রাতের রুটিনে বিঘ্ন:
    ঘুমের আগে ফোন থাকলে স্ক্রল করার প্রবণতা বাড়ে, যা মস্তিষ্ককে "গো-গো" অবস্থায় রেখে দেয় এবং ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে।
  • উৎসাহিত করে ফোন ব্যবহারে:
    ফোন পাশে থাকলে কৌতূহল জাগে—"কী ঘটছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি না?"। এই অনুভূতিই ঘুমের সময় নষ্ট করতে পারে।
  • ঘুমের সময় কমে যায়:
    ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফোনে স্ক্রল করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, ফলে প্রয়োজনীয় ৮ ঘণ্টার ঘুম অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৫. ভালো ঘুমের জন্য করণীয়

  • সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম:
    প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের সুপারিশ করা হয়।
  • রুটিন মেনে চলুন:
    • দিনে উজ্জ্বল আলোয় থাকুন।
    • সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
    • প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খান।
    • ঘুমের আগে ভারী খাবার, নিকোটিন, ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
    • ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস দূরে রাখুন।
    • শান্ত, শীতল এবং অন্ধকার পরিবেশে ঘুমান।
  • সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
    যদি যথেষ্ট ঘুমানোর পরও আপনি বিশ্রামবোধ না করেন, তাহলে স্লিপ অ্যাপনিয়া বা ইনসমনিয়ার মতো সমস্যার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

উপসংহার

ঘুমের মান উন্নত করতে এবং সকালে দ্রুত জাগ্রত হতে একটি ছোট উদ্যোগ হতে পারে ফোনের বদলে অ্যালার্ম ক্লক ব্যবহার। এটি শুধু ঘুমের অভ্যাস উন্নত করবে না, বরং আপনাকে আরও স্বাস্থ্যকর এবং আনন্দদায়ক জীবনযাপনের দিকে এগিয়ে দেবে।

/হ্যাভেন টিভি ডট প্রেস

ভিডিও নিউজ পেতে ক্লিক করুন এবং সাবস্ক্রাইব করুন Heaven tv.press