বিয়ের আগে যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো করা জরুরি
বিয়ের আগে বর-কনের প্রস্তুতির শেষ থাকে না। সাজ-পোশাক থেকে শুরু করে নানা আয়োজনে খরচ করা হয় হাজার হাজার টাকা। তবে এসব প্রস্তুতির মধ্যে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেন না—বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
চিকিৎসকদের মতে, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, সিকেল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু জিনগত রোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াতে পারে। তাই বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই জানা যায় এবং ভবিষ্যৎ দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
১. রক্ত পরীক্ষা
বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ জানা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC), থাইরয়েড ও রক্তে শর্করার পরীক্ষা করা যেতে পারে। রক্তে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব।
২. জিনগত রোগের পরীক্ষা
পরিবারে কোনো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে জেনেটিক পরীক্ষা করা যেতে পারে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
৩. যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা
এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিসসহ বিভিন্ন যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা প্রয়োজন অনুযায়ী করা যেতে পারে। সংক্রমণ থাকলে আগে থেকে শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া এবং সঙ্গীর সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
৪. প্রজননস্বাস্থ্য পরীক্ষা
দম্পতির কারও প্রজননসংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা চিকিৎসাগত ঝুঁকি থাকলে তা আগে থেকে জানা উপকারী। তবে সবার জন্য নিয়মিত ফার্টিলিটি পরীক্ষা প্রয়োজন নয়; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ধরনের পরীক্ষা করা উচিত।
৫. হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বিশেষ ঝুঁকি বা উপসর্গ থাকলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ও হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। হাড়ের দুর্বলতা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিয়ের আগে সব ধরনের পরীক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।