ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০২৫:
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভে এ স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি এসেছে। সর্বশেষ হিসাবে, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপর রয়েছে, যা চলতি অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় অর্জন বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) মানদণ্ড বিপিএম-৬ অনুযায়ীও রিজার্ভের পরিমাণ ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে। তবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’। এতে এসডিআর, ব্যাংকগুলোর ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বকেয়া বিল বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়। বর্তমানে এ ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে দীর্ঘ ১০ মাস ডলার না বিক্রি করাও রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের আর্থিক খাতে সংস্কার, বাজেট সহায়তা ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, আমদানি নিয়ন্ত্রিত থাকায় এবং ডলারের চাহিদা কমে আসায় বিনিময় হারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ডলারের দর অতিরিক্ত কমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি এবং অতিমাত্রায় আমদানি ব্যয়ের কারণে রিজার্ভে টান পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে IMF-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে।