বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে মিত্রদের অস্বস্তি, আশ্বাস দিল দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর উপস্থিতি মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে। জোট সমঝোতার মাধ্যমে মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে আটটিতে বিএনপির নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপি আশ্বাস দিয়েছে, পরাজিত হলেও মিত্ররা জাতীয় সরকার বা সংসদের উচ্চকক্ষে মূল্যায়ন পাবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, দল প্রথম থেকেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলেছে। নির্বাচনের পর মিত্রদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু মিত্রকে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। এই কারণে কিছু অস্বস্তি থাকলেও নির্বাচনের পর সমাধান হবে।

২০২৩ সাল থেকে বিএনপি বারবার জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ গঠন করবে। এছাড়া, অভিজ্ঞ নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জোট সঙ্গীদের মধ্যে কিছু নেতার মনে ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি আশ্বাস দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার ও সংসদের উচ্চকক্ষে মূল্যায়ন করা হবে। গণফোরাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা এই আশ্বাসে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবার ৫টি আসন আশা করেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে দলটির একটি আসন দেওয়া হয়েছে। মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদ জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সম্মানজনক অবস্থান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মোটকথা, বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে কিছু অস্বস্তি থাকলেও বিএনপির আশ্বাসে মিত্ররা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা তাদের মধ্যে আশা সৃষ্টি করেছে।