
ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের পরিণতিতে বিয়ে করতে এসে প্রাণে বাঁচলেন বরগুনার এক তরুণ। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিয়ের আগের দিন ব্যাংকে জমানো টাকা হাতিয়ে নিতে মারধর ও বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কনের পরিবারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী তরুণের নাম হৃদয় হোসেন (২৩)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার শেখ কুতুব উদ্দিনের ছেলে। হৃদয় ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
হৃদয়ের অভিযোগ, ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপে সাতকানিয়ার দেওদিঘী এলাকার মাদার্শা গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত শনিবার বিয়ের উদ্দেশ্যে তিনি সাতকানিয়ায় যান। রোববার বিয়ের দিন ধার্য থাকলেও হঠাৎ কনের পরিবারের সদস্যরা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন ব্যাংকে জমানো সব টাকা কনের একাউন্টে পাঠানোর জন্য।
হৃদয় জানান, রোববার তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ব্যাংকের টাকা মেয়ের একাউন্টে পাঠাতে বলা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় সোমবার তাকে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে সাতকানিয়া রেলস্টেশনে ফেলে রেখে সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পরে রেলস্টেশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা হৃদয়কে উদ্ধার করে পুলিশ। সাতকানিয়া থানা পুলিশ জানায়, জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত হৃদয়কে উদ্ধার করে এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া তরুণকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ‘ভিডিও চ্যাট প্রেম থেকে বিয়ের ফাঁদ’ বিষয়টি মুহূর্তেই আলোচনায় আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।