বিদেশি বিনিয়োগ আনলে প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনার ঘোষণা

image 218

প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসীরা যদি দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তবে সেই বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ নগদ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন তারা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এটি প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার আদলে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে যারা শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবেন, এই নীতির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ প্রণোদনা দেবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বসবাসরত দেশের সমাজ ও বিনিয়োগ মহলে ভালোভাবে সংযুক্ত। সেই সংযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে নীতিগত অনুমোদন মিললেও বাস্তবায়নের আগে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও একটি উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চীনে একটি অফিস খোলা হবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, এসব অফিসে স্থায়ী বেতনভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে কমিশন বা পারফরম্যান্সভিত্তিক পারিশ্রমিক ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ আনতে পারার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হবে। চীনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ চীনা নাগরিকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া দেশের ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার রোডম্যাপও অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘সিঙ্গেল আমব্রেলা’ কাঠামোর আওতায় বিডা, বেজা, বেপজা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পিপিপি কর্তৃপক্ষ এবং বিসিককে একীভূত করা হবে।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, বর্তমানে এসব সংস্থার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার প্রধান দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। অতীতে গড়ে পাঁচ বছরে একবার বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। আদর্শভাবে ছয় মাস পরপর বোর্ড সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো সংস্থাকে বাড়তি সুবিধা না দিতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। নীতিগত অনুমোদন মিললেও আইনগত ও কাঠামোগত বাস্তবায়ন পরবর্তী সরকারের সময়ে সম্পন্ন হবে। আপাতত নতুন সংস্থার নকশা ও কাঠামো তৈরির কাজই অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া বিডার কার্যপরিধির আওতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণের পথ সুগম করা হবে।