
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রার্থী না হলেও ভোট দেবেন ২২ জন সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ ৮৯ জন বিশেষ বন্দি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে ভোট দেওয়ার বিধান চালু হওয়ায় এই সুযোগ পাচ্ছেন তারা। এছাড়া এই তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাধর সাবেক পাঁচজন সচিব, ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। ঢাকার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে তাদের ভোট দিতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে, জানিয়েছে কারা সূত্র।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে দেশের ৭১টি কারাগারে মোট ৫,৯৬০ জন কারাবন্দি ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
ভোট দিতে নিবন্ধন করা রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, ডা. এনামুর রহমান, আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক এমপি ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, হাজী রহিমুল্লাহ, সালাম মুর্শেদী, ডা. আজিজুল ইসলাম, আমিরুল আলম মিলন এবং আবু রেজা নদভী। সাবেক সচিবদের মধ্যে হেলাল উদ্দীন আহমেদ, মেজবাহ উদ্দীন, মোস্তাফা কামাল ও এন এম জিয়াউল আলম, এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মোল্লা নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মির্জা সালাউদ্দীন, অনির্বাণ চৌধুরী, এসপি ইফতেখার মাহমুদ ও শাহ মশিউর রহমান রয়েছেন। এছাড়া কারাবন্দি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শিবলী রুবায়েতও ভোট দিচ্ছেন।
কেরানীগঞ্জ জেল সুপার তায়েব আলী জানান, ভোট দিতে নিবন্ধিত বন্দিদের কেউ জামিন পেলেও ভোটের জন্য নির্ধারিত বুথে কারাগারে উপস্থিত হতে হবে।
যারা নিবন্ধন করেননি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম।
দেশে ৬৪ জেলায় মোট ৭৫টি কারাগার রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের পাশাপাশি ভোটার নিবন্ধন আইন সংশোধন করে হাজতিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আইজি প্রিজন জানিয়েছেন, অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় মোট ৫,৯৬০ জনই ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।
এবারের নির্বাচনে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাজাপ্রাপ্ত ৩৯ জন শ্রেণিভুক্ত বন্দিও ভোট দেবেন। বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কারাগারে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।