
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান ওউদার টিকটক অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। প্রায় চার বছর ধরে গড়ে তোলা তার এই অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ছিল অন্তত ১৪ লাখ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গাজা থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় ইনস্টাগ্রাম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি জানান এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাংবাদিক। তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘এজে প্লাস’-এর নিয়মিত কন্ট্রিবিউটর হিসেবেও কাজ করছেন।
ভিডিও বার্তায় বিসান বলেন, “টিকটক আমার অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়েছে। আমি ভেবেছিলাম আগের মতো কিছু সীমাবদ্ধতা দেওয়া হবে, কিন্তু স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হবে—এটা আশা করিনি।” এ বিষয়ে আল জাজিরা টিকটকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে প্রশ্ন পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।
বিসানের ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর টিকটকে একই ব্যবহারকারী নামের একটি অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, যেখানে উল্লেখ করা হয়—‘কিছু ব্যবহারকারীর কাছে অস্বস্তিকর হতে পারে এমন পোস্টগুলো অনুপলব্ধ।’ ওই অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ যে পোস্টটি দৃশ্যমান ছিল, সেটি ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের, যা গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রায় তিন সপ্তাহ আগের।
নিজের বার্তায় বিসান এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও করপোরেট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য এবং টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডাম প্রেসারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন।
এর আগে গত বছর নিউইয়র্কে ইসরায়েলপন্থি প্রভাবশালীদের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু টিকটককে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করে এর ‘ক্রয় প্রক্রিয়া’ সফল হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন।