রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে বিদেশি অস্ত্রের প্রবেশ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে

image 188

রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বিদেশি অস্ত্রের প্রবেশ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে সেনাবাহিনী একটি বড় অস্ত্রের চালান জব্দ করেছে, পাশাপাশি পদ্মার চরে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আরও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমান্ত পথে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশের প্রবণতাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তারা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। গত ২৬ অক্টোবর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঢাকা-চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে আসা বনলতা এক্সপ্রেসে অভিযান চালিয়ে একটি বগি থেকে ৮টি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গানপাউডার ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। তদন্তে জানা গেছে, এসব অস্ত্র প্রতিবেশী দেশ হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

এর পাশাপাশি গত রোববার ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’-এর আওতায় রাজশাহী অঞ্চলের পদ্মার চরে চালানো অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র। পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর দুর্গম চর এলাকায় সক্রিয় ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে একাধিক চক্র সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে। রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি রাইসুল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় মাঝে মধ্যে কিছু চালান ধরা পড়লেও অনেক অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে ঢুকে পড়ে। জুলাই আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত বা পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি, যা নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”

রাজশাহীর বেসরকারি সংস্থা সিডিআইআর-এর প্রধান পরামর্শক সুব্রত কুমার পাল বলেন, “বিদেশি অস্ত্রের অনুপ্রবেশ সীমান্ত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ করার অন্যতম কারণ। এটি যদি নির্বাচনের আগে বাড়ে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, “বিজিবি সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে। যদি চোরাকারবারিরা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে, র‌্যাব বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে র‌্যাব সদস্যদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ব্যবহারেরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান উভয়ই জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার আগে তথ্য সংগ্রহ, জড়িতদের শনাক্ত ও আটক কার্যক্রম চলছে।”

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে র‌্যাব সীমান্ত থেকে আসা একাধিক বিদেশি অস্ত্রের চালান জব্দ করেছে। গত এক বছরে র‌্যাব উদ্ধার করেছে ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৪ কেজি গানপাউডার। পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে।