অবরোধে রামদা হাতে শিশুদের সড়কে অবস্থান

image 189

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরে দলটির নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র হাতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অবরোধ চলাকালে শিশুদেরও রামদা ও লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ শুরু হয়, যা সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা যুবলীগ নেতা দেবাশীষ নয়ন নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচার করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শতাধিক নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র—রামদা, ঢাল ও লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। হেলমেট পরা কয়েকজন শিশুকেও লাঠি ও রামদা হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

অবরোধের কারণে ঢাকা ও খুলনামুখী অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। স্থানীয়দের মতে, ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জমুখী ওই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণার আগেই ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন এবং সকালে সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন, যা পরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, “ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর এলাকায় অবরোধের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় এক ঘণ্টার জন্য অবরোধ করা হয়েছিল, যা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পুলিশ অবরোধমুক্ত রাখতে নিয়মিত চেষ্টা চালাচ্ছে।”

এদিকে ফরিদপুর বাসমালিক সমিতি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ফরিদপুর বাসমালিক গ্রুপের নেতা কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, “আমরা বাস চালাতে চাই, কিন্তু যাত্রী না থাকলে তো খালি বাস নিয়ে রাস্তায় নামা সম্ভব নয়।”