রাজধানীর যেসব এলাকা কম ঝুঁকিপূর্ণ:

image 379

যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেমন্ট–ডোহের্টি আর্থ অবজারভেটরি জানিয়েছে, গত ২১ নভেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটি ছিল গত দুই দশকের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন।

রিখটার স্কেলের ৫.৫ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে রাজধানী ও আশপাশের অনেক ভবন ও স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয়। ঢাকাসহ তিন জেলায় প্রাণহানি ঘটে এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি।

ভূতাত্ত্বিকদের আশঙ্কা— ঢাকার কাছেই অবস্থিত মধুপুর ফল্ট জোনে যদি ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে, তবে রাজধানীর বহু এলাকায় বিপর্যয়কর ক্ষতি হতে পারে। তবে ঢাকার কিছু অঞ্চল তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

রাজধানীর যেসব এলাকা কম ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকার বেশ কিছু এলাকার মাটি শত বছরের পুরোনো এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল— যা ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাতে সক্ষম। এর মধ্যে রমনা, পল্টন, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, কোতয়ালি, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, শের-ই বাংলা নগর, মিরপুর, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, শাহ-আলী, লালবাগ, গেন্ডারিয়া, গুলশান ও তেজগাঁওসহ আরও কয়েকটি থানা এলাকা রয়েছে। বড় ধরনের কম্পন হলেও এসব এলাকায় ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, পুরান ঢাকার মাটি শক্ত হলেও বিপদের জায়গা হলো ভবনগুলোর বয়স ও দুর্বল কাঠামো। এখানে অনেক ভবন এতটাই পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যে বড় ভূমিকম্পে সেগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবীর জানিয়েছেন, ঢাকার ভেতরে ৮–৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো বড় ফল্টলাইন নেই। তবে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের মধুপুর অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটার জন্য যথেষ্ট সক্রিয় ফল্ট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এমন কোনো বড় কম্পন হলে ঢাকার নতুন ভরাট করা অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে— হতাহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে অতীতের সব রেকর্ড, আর শহরের ভূপ্রকৃতি পর্যন্ত বদলে যেতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন— বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার চারপাশের জলাভূমি রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে এসব অঞ্চলই সবচেয়ে বেশি দখল ও ভরাটের শিকার। তার মতে, বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হবে সেসব এলাকায়, যেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা অগ্রাহ্য করে অগণিত স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয়ের জন্য প্রকৃতির চেয়ে মানুষের অব্যবস্থাপনাই বেশি দায়ী হবে।