ব্যবসায়ীদের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক বৃদ্ধি এক মাসের জন্য স্থগিত

image 136

চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক ও সেবা খাতে সম্প্রতি ঘোষিত চার্জ বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের জোরালো দাবির মুখে এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে সরকার।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট ম্যানেজমেন্ট: প্রবলেমস, প্রসপেক্টস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এক মাসের স্থগিতাদেশ শেষে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হবে।

উপদেষ্টা জানান, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বে-টার্মিনালসহ চলমান প্রকল্পগুলো বন্দরের চার্জ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। তবে সাময়িক স্থগিতাদেশ রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ কিছুটা কমাবে।

কর্মশালায় ব্যবসায়ী নেতারা অন্তত ছয় মাসের জন্য শুল্ক স্থগিত রাখা ও কিছু চার্জ কমানোর দাবি জানান। তারা বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলায়। এ সময় তারা সেবার সংকট নিরসনে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, কনটেইনার নিলাম ও কার্গো সরবরাহ দ্রুত করার জন্য আইন সংস্কারের প্রস্তাব দেন।

নতুন শুল্ক কাঠামোতে বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) সেবার চার্জ গড়ে ৪০–৪৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেন, আইসিডিগুলো সেবার মান বা সক্ষমতা না বাড়িয়েই চার্জ বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সমালোচনা করেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরটি এখন নকশা অনুযায়ী ধারণক্ষমতার বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। সীমিত গভীরতা ও জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি এখনও বৈশ্বিক মানে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কনটেইনার দ্রুত খালাস, কাস্টমস স্বয়ংক্রিয়করণ এবং আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি সামলাতে আইন সংস্কারের ওপর জোর দেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানান, বন্দরে আটকে থাকা সব নিলামযোগ্য কনটেইনার চলতি মাসেই তালিকাভুক্ত করে দ্রুত নিলাম করা হবে। এছাড়া সাবেক এমপিদের ফেলে রাখা ৩০টি গাড়ি সরকারি পরিবহন পুলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, লজিস্টিকস পারফরম্যান্স, বাণিজ্য ব্যয় এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স দক্ষতার দিক থেকে চট্টগ্রাম বন্দর এখনও বিশ্বের শীর্ষ বন্দরগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে।