
মাত্র ৩২ বছর বয়সে গুলিতে নিহত হন তরুণ সাংবাদিক হাসান মেহেদী। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের সন্তান ছিলেন এবং স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বসবাস করতেন। সাংবাদিকতা করতেন “ঢাকা টাইমস”–এ সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। জীবনের শেষ দিনটি ছিল আন্দোলন আর উত্তেজনায় ভরা।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে, যাত্রাবাড়ী উড়াল সেতু এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করছিলেন তিনি। হঠাৎ পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। হাসান মেহেদীর গলায় পরিচয়পত্র ঝুলছিল, হাতে ছিল ক্যামেরা। পরিচয়পত্র দেখিয়েও রক্ষা পাননি তিনি। সাঁজোয়া যান থেকে আসা পুলিশের ছররা গুলিতে তাঁর বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়। সেখানেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ওপরও এক নির্মম আঘাত।
হাসানের বাবা-মা আজও জানতে চান—একজন মানুষকে থামাতে কতগুলো গুলি লাগে? স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি এখনও মানতে পারেন না—পরিচয়পত্র হাতে থাকা একজন সাংবাদিককে এভাবে মারা যেতে পারে। দুই মেয়ে মায়মুনা ও মেহেরাশ কখনোই বুঝবে না কেন তাদের বাবা আর ফিরবেন না।
এই হত্যাকাণ্ডের পরে দায়সারা একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ, যেখানে দোষারোপ করা হয় জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের। এমনকি এক নারী আত্মীয় পরিচয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করেন। পরে সরকার পরিবর্তনের পর, নিহত মেহেদীর বাবা নিজেই মামলা করতে চাইলেও আগের মামলা দুটি দেখিয়ে তা গ্রহণ করা হয়নি।
ডিবির তৎকালীন এক কর্মকর্তার সহায়তায় পরে নতুন করে মামলা নেয় যাত্রাবাড়ী থানা, কিন্তু শর্ত ছিল—প্রথম এজাহারে থাকা ছয় পুলিশ সদস্যের নাম বাদ দিতে হবে। মামলার অগ্রগতি এখনো শ্লথ। পরিবার এখন শুধু একটাই দাবি জানায়—ন্যায়বিচার।
/ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক