গড়ের মাঠে শহরের উষ্ণতম দিন, এক চিলতে মহীন

mohiner ghoraguli

কলকাতার রোদ পুড়ে যাওয়া দুপুরে, পিচ গলে যাওয়া ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মনে পড়ে—
“শহরের উষ্ণতম দিনে, পিচগলা রোদ্দুরে… তোমায় দিলাম আজ”।

এই গান যেন শুধুই গান নয়, বরং শহরের গরম আর ক্লান্তির ভেতর এক চিলতে শান্তি, এক পশলা বৃষ্টি।
বেলুনগাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বা পুরোনো ট্রাম পেরোনোর সময় যাদের মনে পড়ে এই গান, তাদের কাছে এ যেন আত্মার বন্ধুবান্ধব।
একটা রাত যখন কোলকাতার রাস্তায় পিচ ভিজে আছে বৃষ্টিতে, আর রিকশার চাকা ঘুরছে কাদাজলে— ঠিক সেই সময় এই গান যেন হয়ে ওঠে নিঃশব্দ বন্ধু।
কখনো ফুটপাথে একা হাঁটার সময়, কখনো বা গাদাগাদি করে বন্ধুর সাথে চা-সিগারেটের আড্ডায়— এই গান কেবল বাজে না, হৃদয়ে বেজে ওঠে।

অনেকে আজও মনে করেন গানটি “মহীনের ঘোড়াগুলি”র লেখা বা গাওয়া। কিন্তু হালের তথ্য অনুযায়ী, এটি আসলে জয়জিত লাহিড়ীর লেখা, সুব্রত ঘোষের সুর ও কণ্ঠে গাওয়া গান, ব্যান্ড ‘গড়ের মাঠ’-এর।

তবে, গানের সঙ্গে যে এক গভীর “মহীন-ভাবনা” জড়িয়ে আছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
এই গান যেমন শহরের গল্প, তেমনি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সেই ধোঁয়ামাখা সুরের উত্তরাধিকার বহন করে।

যেভাবে জীবনানন্দের কবিতায় “মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে”— তেমনি এই গানও শহরের মেলানকোলি, ক্লান্তি আর প্রেমের ছায়া হয়ে ওঠে।
গানটা যদি “মহীনের ঘোড়াগুলি”র নয়ও হয়, তবু মহীনের আত্মা যেন এর প্রতিটি লাইনের মধ্যে বেঁচে থাকে।
গানটি কার, সেটা গৌণ— গানটি কী বলে, সেটাই মুখ্য।

/ইফতেখার হোসাইন, প্রতিবেদক