-69cca02374e6a.webp)
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ভুয়া বা জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি গ্রহণ এবং বেতনভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকতার মতো পবিত্র পেশায় যোগ দেওয়ার জন্য মেধা, যোগ্যতা ও সততা থাকা অবশ্যক, কিন্তু এই অভিযোগ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারী বেতনভাতা গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় তার জমা দেওয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি নিরীক্ষায় ওই সনদকে জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তার কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোস্তফা কামালের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসন, স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তার নিজস্ব কম্পিউটার দোকান ‘মোস্তফা কম্পিউটার’ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জাল বা ভুয়া প্রশিক্ষণ সনদ তৈরি হতো। দোকান থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ১০–১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব সনদ সংগ্রহ করতেন।
ডিআইএ’র নিরীক্ষা অনুসারে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ যাচাই করা হয়। যে সকল সনদ প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডে নেই বা তথ্যের সঙ্গে মেলে না, সেগুলোকে জাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মোস্তফা কামালের জমা দেওয়া সনদও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি পূর্বে পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং ওই সময়ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, মোস্তফা কামাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন।
আইনজীবী মাহমুদ ইসলাম সুমন বলেন, জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি গ্রহণ বাংলাদেশের আইনে গুরুতর অপরাধ। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল তৈরি বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা কিছু ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সরকার ওই অর্থ ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতাও রাখে।
এ বিষয়ে মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।