
ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত এই ঘটনাকে ব্রিটিশ–ফিলিস্তিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) পূর্ব লন্ডনের হামারস্মিথে দূতাবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি দূত হুসাম জুমলুত বলেন, “আজকের দিনটি ব্রিটেন ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের নতুন এক মাইলফলক।”
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের আপত্তি উপেক্ষা করেই এই স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
দূতাবাস উদ্বোধনী বক্তব্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, “পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধাসহ যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস চালু হওয়া আমাদের জনগণের সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং জাতিসমূহের মধ্যে সমান মর্যাদার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “গাজা, পূর্ব জেরুজালেম, অধিকৃত পশ্চিম তীর, শরণার্থী শিবির এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রজন্মের পর প্রজন্মের ফিলিস্তিনিদের জন্য এই দূতাবাস একটি শক্ত বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে— আমাদের পরিচয় অস্বীকার করা যাবে না, আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং আমাদের জীবনের মূল্যকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।”
শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতির জন্য এই দূতাবাসের উদ্বোধন অত্যন্ত স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।