পরিবেশের ক্ষতি নয়, চাই সমন্বিত টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা

image 20

মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, পরিবেশকে প্রভাবমুক্ত রেখে বাংলাদেশে সড়ক, রেল, বিমান ও নৌপথের সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘সেন্ট্রাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টর মাস্টার প্ল্যান অব বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত প্রান্তিক মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সড়ক পরিবহন ও রেলপথ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দীন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে খুবই অগোছালো। এটি দ্রুত শৃঙ্খলার মধ্যে না আনলে অর্থনীতির জন্য বিপদ সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় নদী বা পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। নদী আমাদের প্রাণ; তাই পানি শান্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।”

বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ একটি প্রাথমিক কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যেখানে দেশের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংযোজনের মাধ্যমে সিস্টেমটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার পথ দেখানো হয়েছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথের যথাযথ ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একটি শক্তিশালী ধারণা পাওয়া যাবে। এখন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সময়। সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে।”

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “কিছু ছোট সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের জাতীয় কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করা সম্ভব। সেগুলো দ্রুত পরিকল্পনার আওতায় আনা জরুরি।”

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগে পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করতে একটি ‘প্ল্যানার্স উইং’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রামে আরও তিনটি নতুন বন্দর চালু হবে। এসব বন্দর থেকে সড়ক যোগাযোগ কার্যকর রাখতে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”