নিউইয়র্কে বিমানবন্দর থেকে আলাদা বের হওয়ার কারণ জানালেন জামায়াত নেতা তাহের

image 175

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা। সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেন হামলার শিকার হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

ঘটনার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা উপস্থিত থাকলেও, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সেখানে দেখা যায়নি। কেন রাজনৈতিক নেতারা বিমানবন্দর থেকে একসাথে বের হননি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাহের বলেন,
“প্রথমে আমাদের সবাইকে প্রধান উপদেষ্টার বহরের গাড়িতে উঠানো হয়। পরে দেখা গেল ভিসায় পার্থক্য রয়েছে। যারা সরকারি প্রতিনিধি, তাদের ভিসা ছিল জি-ওয়ান; আর আমাদেরটা ছিল সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা। নিয়ম অনুযায়ী জি-ওয়ান ভিসাধারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট লাগে না, কিন্তু ট্যুরিস্ট ভিসায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়। এখানেই একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছিল। তাই আমাদের ইমিগ্রেশনের প্রক্রিয়া শেষে হেঁটে বের হতে হয়। প্রধান উপদেষ্টা এ কারণে আমাদের জন্য ১০ মিনিটেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ মিশনের সমন্বয়হীনতার কারণেই সবাই একসাথে বের হতে পারেননি। তাহেরের মতে,
“যদি আমরা একসাথে বের হতাম, তাহলে হামলাকারীরা হয়তো সুযোগ পেত না।”

প্রবাসী আওয়ামী লীগের কর্মীরা যখন এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ছিলেন, তখন মির্জা ফখরুল ও তাসনিম জারা পাশে থাকলেও তাহেরকে দেখা যায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,
“আওয়ামী লীগ এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাই আশঙ্কা ছিল। তবে আমরা তখনো বুঝতে পারিনি বাইরে কী হচ্ছে। আমি সবার সাথে ছিলাম, তবে একটু দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। কারণ আমাদের ছেলেরা শুধু আমার নামেই স্লোগান দিচ্ছিল।

আমি তাদের বলেছিলাম ফখরুল সাহেবের নামেও স্লোগান দিতে, কিন্তু উত্তেজনায় তারা শুনছিল না। এতে মনে হচ্ছিল ফখরুল ভাই বিব্রত হচ্ছেন। তাই ইচ্ছে করেই একটু পিছনে ছিলাম।

তিনি আরও বলেন,
“পরবর্তীতে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, ফুল দেওয়া হয় এবং আমি কয়েক মিনিট বক্তব্যও দিই। এ কারণে টাইম গ্যাপ তৈরি হয়। এরপরেই ডিম ছোঁড়ার ঘটনার খবর পাই। তবে টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আখতার ভাইকে যেসব ছেলে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, তারা আমাদেরই কর্মী।”

তাহের এটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা” বলেও উল্লেখ করেন।