বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট মূলত পদ্ধতিগত নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতিনির্ভর। যতদিন নিরপেক্ষ প্রশাসন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা না যাবে, আর রাজনীতিতে সহনশীলতা ও সমঝোতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন কোনো নির্বাচনী মডেলই কার্যকরভাবে সফল হবে না।

সম্প্রতি প্রপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় ও ছোট—সব রাজনৈতিক দলই এখন পিআর পদ্ধতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং জনমত গঠনে ব্যস্ত।

বাংলাদেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে পিআর পদ্ধতির প্রশ্নটি।

রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে, পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে ভোটের সংখ্যার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে, এবং সার্বিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও যুগোপযোগী হয়ে উঠবে। তাঁদের বিশ্বাস, দলীয় একনায়কত্বের প্রবণতা রোধ করে একটি অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এমন কাঠামো এখন সময়ের দাবি।