জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নন, তারাই গণভোটকে ভয় পান। এজন্য তারা গণভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করছে। তিনি এই মন্তব্য করেন সোমবার জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে।

জুলাই সনদে প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নব্য ফ্যাসিবাদের অবস্থা আওয়ামী লীগের মতোই হবে। বিগত ৫৪ বছরে যেই পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছে, সেই পদ্ধতিতে জনগণের সরকার গঠিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সরকারকে স্বৈরাচারী বানানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একদলীয় শাসনে কখনো স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি এবং হবে না। সকল দলের অংশগ্রহণমূলক সংসদ গঠিত হলে কোনো একক দল স্বৈরাচারী হতে পারবে না।

মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরু হয়। ওই দিন সারা দেশে আওয়ামী লীগ জনগণকে নির্যাতন করে, জামায়াত-শিবিরের ১৪ জনকে হত্যা এবং লাশের ওপর নৃত্য করে, যা মানবসভ্যতার এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ছিল জামায়াতে ইসলামী তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা। সেই দিন সারা দেশ রক্তাক্ত করা হয়। মামলাও করা হয়েছিল, কিন্তু পরে অধিকতর তদন্তের নামে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।