প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতীতের সরকারের ধারাবাহিকতা পরিহার করে নতুনভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এজন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলে তা বাস্তবায়ন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে জনগণের চাহিদা পূরণ করা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি জাতির উন্নয়নে শিক্ষার মানোন্নয়ন অপরিহার্য। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না, তারাও কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জন দিয়ে জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চতর গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে উদ্ভাবনী ধারণা এবং আধুনিক জ্ঞানের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে জনহিতকর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। আমাদের মূলনীতি হওয়া উচিত—‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
তিনি জানান, কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর আধুনিক আবাসিক সুবিধাসহ নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণেও সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।