ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণভোটের আয়োজন নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখনও জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়নি। কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের পক্ষে, আবার কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের আগেই ভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দলগুলোর এই বিভক্তি সরকারকে ভোটের সময় নির্ধারণে স্বাধীনতা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক বিবেচনায় আনন্তরীণ সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করা হবে কি না। আগামী শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর এ বিষয়ে সরকারি অবস্থান পরিষ্কার হবে। সরকারের একটি সূত্র জানায়, একই দিনে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে।

গণভোট একটি জাতীয় বিষয় এবং এর আয়োজনের জন্য ব্যাপক ব্যয় ও প্রচার প্রয়োজন। একই দিনে নির্বাচন করলে সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনও একাধিক ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই এগিয়ে নিয়েছে, ফলে একই দিনে ভোট আয়োজন তেমন সমস্যা হবে না।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, দলগুলো ভোটের সময় নিয়ে একমত না হওয়ায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ভিত্তিতে সরকারের ওপর ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। সরকার সময়, প্রস্তুতি ও অর্থের বিষয়গুলো বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন আশা করছে, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।

গণভোটের ক্ষেত্রে ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ১৯৭২ সালে গণভোটের বিধান রাখেনি। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি যুক্ত করা হয়। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করা হলেও পরে আদালত পুনরায় গণভোটের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে দেয়। এ পর্যন্ত দেশে মোট তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, গণভোটের মূল প্রশ্ন হবে—জুলাই সনদ গ্রহণ করা হবে কি হবে না, যার উত্তর জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর মাধ্যমে জানাবে। রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে সময়, খরচ এবং প্রশাসনিক চাপ কমানো সম্ভব হবে। তবে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে যথেষ্ট প্রচারণা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সরকারের একটি সূত্র জানায়, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতিও চলছে। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ হলে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও একই দিনে ভোট আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত মিলেছে। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব হবে।