
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাদের মধ্য থেকে দুজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিচয় প্রকাশকারী দুজন হলেন মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিন – যার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বরে লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামের এক ব্যবসায়ীকে একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে পাথর মেরে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।
নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ব্যবসায়িক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার বিষয়টি উঠে এসেছে। নিহত সোহাগ ‘সোহানা মেটাল’ নামে একটি ভাঙাড়ির দোকান ও পুরোনো বৈদ্যুতিক তারের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ব্যস্ত হাসপাতাল চত্বরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জনসমক্ষে এত ভয়াবহ একটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও আশপাশের কেউ কেন হস্তক্ষেপ করলো না।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আরও কোনো তথ্য পেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মন্তব্য (0)
প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।